দার্জিলিংকে হার মানাবে সাজেক ভ্যালী 14/07/2018


সাজেক ভ্যালী, রাঙ্গামাটি

 সাজেক ভ্যালীসাজেক ভ্যালী, মেঘ-পাহাড়ের দেশ

সাজেক ভ্যালী, রাঙ্গামাটিঃ

“সাজেক ভ্যালী” রাঙ্গামাটি জেলার একটি  উদীয়মান পর্যটন কেন্দ্র । মেঘ এবং পাহাড়ের মিলন মেলা  দেখে সাজেক ভ্যালীকে মনে হবে পৃথিবীর মাঝে  এ যেনো এক টুকরো স্বর্গ।

আকাশের মেঘগুলো যেন উড়ে উড়ে এসে বসেছে পাহাড়ের এক একটা কোলে। আর সকাল-সন্ধ্যা প্রায় সময়ই মেঘের খেলা যা সাজেকের সবচেয়ে অন্যতম আকর্ষণ। আপনার চোখ যেদিকে যাবে, দেখবেন শুধুই মেঘ আর রংয়ের খেলা। আর আপনি যদি সর্বোচ্চ চূড়া থেকে নিচে দূরের গ্রামগুলোর দিকে তাকান তাহলে মনে হবে পটে আঁকা যেন এক আধুনিক কোনো ছোট্ট শহর!

বদলে যাওয়া সাজেকের মানুষের মাঝেও এসেছে এক অনন্য পরিবর্তন। এই বদলে যাওয়াকে অনেক স্থানীয় লুসাই ও ত্রিপুরাদের ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও কারও কারও আছে ভিন্ন ভিন্ন মত। সবচেয়ে যা দেখবেন রাতের সাজেক যা আপনাকে অনেক সুন্দর একটা দৃশ্য দিবে। বিদ্যুৎ নেই তবুও সোলারের মাধ্যমে এখানে চলে সবকিছু।

সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ খুললেই মনে হবে, মেঘের চাদরে ঢাকা রয়েছে এই সাজেক। এই মধুর পাহাড়ের উঁচু থেকে মেঘে মেঘে লাফ দিতে ইচ্ছা করতে পারে যে কারোর! প্রাকৃতিক নিসর্গ সাজেক পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ইতিমধ্যে আবার অনেক ভ্রমণ পিপাসু মানুষ বলছেন 'বাংলাদেশের সাজেক নাকি ভারতের দার্জিলিং'।

নামের উৎপত্তিঃ

কর্ণফুলী নদী থেকে সাজেক নদীটির উৎপত্তি এবং সাজেক নদী থেকে “সাজেক ভ্যালী”  নামের উৎপত্তি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্তের মত কাজ করে সাজেক নদীটি।

অবস্থানঃ

সাজেক বাঘাইছড়ি উপজেলার রাঙ্গামাটি জেলাতে অবস্থিত। যাতায়াতের সুবিধার জন্য পর্যটকরা রাঙ্গামাটি জেলা দিয়ে না গিয়ে খাগড়াছড়ি হয়ে আসা-যাওয়া করে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইয়উনিয়ন হলো সাজেক যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল।

সাজেকমেঘ বিলাস

রাঙ্গামাটি জেলার সর্ব উত্তরে মিজোরাম সীমান্ত ঘেঁষে সাজেক ভ্যালী অবস্থিত এবং মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। সাজেকের পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘানালা, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লংদু এবং উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা।

নৌপথে কাপ্তাই হয়ে রাঙ্গামাটি জেলা থেকে সাজেক আসা যায়। ৭০ কিলোমিটার দূরত্ব খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে, ৪৯ কিলোমিটার  দীঘিনালা  থেকে এবং ৩৪ কিলোমিটার বাঘাইহাট থেকে।

সকালের সূর্যোদয়ে সাজেক ভ্যালীর সৌন্দর্য্যসকালের সূর্যোদয়ে সাজেক ভ্যালীর সৌন্দর্য্য

সাজেকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঃ

প্রকৃতি তার সব সৌন্দর্য দিয়ে সাজিয়েছে সাজেক ভ্যালীকে। ঋতু বৈচিএের সাথে সাথে সাজেক তার রূপ পরিবর্তন করে নিজেকে নতুন রূপে উপস্থাপন করে। তাই সাজেকের সৌন্দর্যের কোন কমতি নাই। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠার পর চারদিকে তাকালে মনে হবে যেনো মেঘের ভেলায় ভাসতেছি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাকালে মনে হবে হ্যামিলিয়নের বাঁশিওলার মতো পাহাড় ঘেরা কোন এক গ্রামের মাঝে হারিয়ে গেছি।

প্রকৃতির মাঝে সাজেক।প্রকৃতির ও পাহাড়ের মাঝে সাজেক ভ্যালী

সাজেক ভ্রমণকে একটা রোমাঞ্চকর দুঃসাহসিক ভ্রমণ বলা যেতে পারে কারন সাজেক ভ্যালী সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত।খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যাওয়ার রাস্তাটিকে মনে হবে রোলার কোস্টার দিয়ে উঠছি আর নামছি।

সূর্যাস্ত এবং মেঘের ভেলা দেখার জন্য উপযুক্ত জায়গা হচ্ছে কংলক পাড়া। কংলক পাড়া হচ্ছে সাজেকের শেষ গ্রাম এবং সবচেয়ে উঁচু পাড়া। বাঁশের কঞ্চির উপর ভর করে যখন কংলক পাড়ায় উঠবেন তখন খুবই রোমাঞ্চকর লাগবে।  কারন যারা আগে কখনো পাহাড় ট্র্যাকিং এ যায় নাই তাদের কাছে খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও সত্যিকারের রোমাঞ্চকর অভিযান মনে হবে। যদি মেঘ দেখার ইচ্ছে করে তাহলে খুব ভোরবেলায় বেরিয়ে পড়তে হবে। সন্ধ্যে বেলাটা হেলিপ্যাড এ কাটাতে পারেন এবং ফানুস উড়িয়ে সেটাকে ভারতের মিজোরাম সীমানায় পাঠিয়ে দিতে পারবেন।

মেঘের ভেলা, সাজেক ভ্যালীমেঘের ভেলাতে সাজেক ভ্যালীর সৌন্দর্য্য

খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহা ভ্রমণকে একটা দুঃসাহসিক ভ্রমণ মনে করতে পারেন। গুহার প্রবেশ পথটাকে পিচ্ছিল মনে করে অনেকেই ভিতরে ঢোকার সাহস করে না এবং ফিরে চলে আসে। দেখতে পিচ্ছিল মনে হলেও আসলে তা পিচ্ছিল না, পানির স্রোত যেতে যেতে পাথরগুলো ধারালো হয়ে গেছে। তাই রাবারের স্যান্ডেল নিয়ে যেতে ভুল করবেন না। হাতে মর্শাল নিয়ে যেতে হবে এবং সাবধানে পা ফেলতে হবে। কারন গুহার ভেতর অন্ধকার এবং ঝর্ণার পানির কারনে পাথর গুলো ডুবে থাকায় গর্ত কোথায় আছে বুঝতে পারবেন না। তাই সতর্কভাবে পা ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং যেতে যেতে মনে হবে যেনো আদিম যুগে চলে গেছেন। তাতেই বা মন্দ কিসের।

আলুটিলা গুহা, খাগড়াছড়িআলুটিলা গুহা, খাগড়াছড়ি

সাজেক থেকে ফেরার পথে দেখে আসতে পারেন হাজাছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ এবং দীঘিনালা বনবিহার। সময়টা সেইভাবে সেট করে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়তে হবে। ছবি তুলতে চাইলে দিনের আলোতে বেড়ানোই ভালো কারন ছবি গুলো এক সময় স্মৃতি হয়ে থাকবে। খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহা ছাড়াও তারেং, খাগড়াছড়ি ঝুলন্ত ব্রিজ এবং রিসং ঝর্ণা দেখে আসতে পারেন।

রিসং ঝর্ণা,খাগড়াছড়িরিসং ঝর্ণা,খাগড়াছড়ি

আদিবাসী এবং তাদের জীবনযাপনঃ

সাজেক ভ্যালীর প্রথম গ্রাম হচ্ছে রুইলুই পাড়া যা সাজেক ভ্যালী প্রবেশের প্রথমেই পড়বে এবং উচ্চটা ১৮০০ ফুট। প্রবীণ জনগোষ্ঠী হচ্ছে লুসাই, এছাড়াও পাংকুয়া ও ত্রিপুরারা বাস করে।

আদিবাসীরা জুম চাষ করেই জীবন যাপন করে। উল্লেখযোগ্য ফসল হলো ধান, হলুদ, আদা এবং ফলের মধ্যে কলা, পেঁপে ও কমলালেবু উল্লেখযোগ্য। গৃহপালিত পশুর মধ্যে শূকর, ছাগল, মুরগী এছাড়াও পাহাড়ী সবজী যেমন মিষ্টি কুমড়ো, শশা, কচু, মুলা ও কচি বাঁশ উল্লেখযোগ্য।

আদিবাসীদের জীবন যাত্রার মান অনেক কঠিন। সাজেক ভ্যালীর কারনে অনেকে সেখানে দোকান করে নিজেরাই ব্যবসা করে ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা করছে। পানির একমাত্র উৎস হলো বৃষ্টি তাই শীতকালে পর্যটকদের ব্যবহারের জন্য পানি কিনে রাখে।

আদিবাসীরা খুবই আন্তরিক এবং সাজেক ভ্যালী যাওয়ার পথে আদিবাসী শিশুরা হাত নেড়ে স্বাগত জানাবে এবং যাওয়ার সময় বিদায় জানাবে। এই কাজগুলো করতে শিশুরা কখনই ক্লান্ত হয় না।

কিভাবে যাবেনঃ

শ্যামলী, হানিফ, ও শান্তি পরিবহনের বাসে করে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন। এছাড়াও শান্তি পরিবহনের বাস দীঘিনালা যায় সেখান থেকেও সাজেক যেতে পারেন। আরেক্তু আরামে যেতে চাইলে সেন্টমার্টিন, বিআরটিসি ও শান্তি পরিবহনের এসি বাস এ করে যেতে পারবেন।

চান্দের গাড়ি (জিপ গাড়ি) রিজার্ভ নিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক ভ্যালী ঘুরে আসতে পারেন এবং ভাড়া পড়বে  ৮,০০০ -১০,০০০ টাকা। এক গাড়িতে ১২-১৫ জন বসতে পারবে। এছাড়াও সিএনজি অথবা মোটর সাইকেল এ যেতে পারবেন। সিএনজি নিয়ে যাওয়াটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ কারন উলতে যাবার সম্ভাবনা থাকে এবং ভাড়া পড়বে ৪০০০-৫০০০ ও মোটর সাইকেলে এ ১০০০-১২০০ টাকা। সেইদিন ঘুরে আসতে চাইলে সন্ধার আগেই ফিরে আসতে হবে কারন বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্প পার হতে হবে। মেঘ দেখতে চাইলে একটা রাত সাজেক থাকতে হবে কারন ভোরবেলায় মেঘ দেখা যায় এবগ সূর্য উঠার পর মেঘগুলো আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে থাকে।

নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছেন তাহলে নিশ্চিন্তে যেতে পারেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আপনার নিরাপত্তার জন্য অতন্দ্র প্রহরীর মতো অবিরাম পাহারা দিয়ে যাচ্ছে। সকাল ১০ টার আগে বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্প পার হতে পারবেন না। প্রতিটি গাড়ি ক্যাম্প পার হবার সময় সেনাবাহিনীর কাছে হিসেব দিয়ে যেতে হবে এবং ঐ গাড়িটি আবার ফিরে যাবার সময় সেই মানুষ গুলোর হিসেব সেনাবাহিনীর কাছে দিয়ে যেতে হবে। এছাড়া সব গুলো গাড়ির সামনে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি থাকবে যা আপনার সাথে সাথে সাজেক যাবে এবং সাজেক থকে আবার ফিরে আসবে। তাই আপনি হারিয়ে যেতে চাইলেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আপনাকে হারাতে দিবে না।

কোথায় থাকবেনঃ

চোখের সামনে দিয়ে মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াচ্ছে আর আপনি সেটা না দেখেই চলে আসবেন তা কি হয় সেইজন্যই পর্যটকদের কথা ভেবে অনেক সুন্দর সুন্দর কটেজ, রিসোর্ট এবং হোটেল বানানো হয়েছে। আপনি আপনার হোটেল এর রুম এ  বসে মেঘ দেখতে পারবেন আর মনে মনে ভাব্বেন ইস আর অল্পের জন্য  মেঘটা ধরতে পারলাম না। বর্ষাকালে মেঘ একেবারে কাছে চলে আসে। আসলে সাজেকের সৌন্দর্যের কোনো শেষ নেই ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন রকমের সৌন্দর্য দেখেতে পারবেন।

কোথায় খাবেনঃ

খাগড়াছড়ি  শহরের পানখাই পাড়ার ঐতিহ্যবাহী সিস্টেম রেস্তারায়  আদিবাসী খাবার গুলো খেতে পারবেন। তবে কচি বাঁশের বিভিন্ন পদের মুখরোচক খাবার খেতে হলে বর্ষা কালে যেতে হবে। এছাড়া আপনি যে রিসোর্ট এ থাকবেন সেইখানেও খেতে পারবেন সেটা আগে থেকে বলে রাখতে হবে। পাহাড়ি চালের খিচুড়ি, ডিম ভুনা, ব্যাম্বো চিকেন এবং সবজি খেতে ভুলবেন না।

যা যা নিয়ে যাবেনঃ

  • রবি অথবা এয়ারটেল সিম কার্ড
  • পাওয়ার ব্যাংক এবং ক্যাবল
  • অডোমস (odomos mosquito cream)
  • সানব্লক ক্রিম
  • সানগ্লাস
  • রোদ ঢাকার জন্য ক্যাপ/হ্যাট
  • রাবারের স্যান্ডেল ও ট্র্যাকিং জুতা
  • ব্যাক প্যাক (পিঠে বহন করার ব্যাগ)
Call Us For Sajek Package: +8801689-777444, 01618-747456.

Click on the link to know more about our Sajek package: https://goo.gl/DvG6Yc

Office Address:
Trip Silo Office Adress: House # 477 (2nd Floor), Road # 32, New DOHS, Mohakhali. Dhaka # 1206.
Contact Number: 01689777444 , 01873111999
Office: +88 09678 111 999
Facebook Page: facebook.com/tripsilo

Leave a Comment