ভ্রমণকে নিরাপদ ও আনন্দময় করতে ৭টি টিপস 09/01/2018


আপনার ভ্রমণকে নিরাপদ ও আনন্দময় করতে:

আমরা ভ্রমনে যাই সেটা শুধু আনন্দের খোরাক নয়। কোনো কোনোক্ষেত্রে আমাদের প্রতিষেদক এর কাজ করে দূরে কোথাও ভ্রমনে গেলে। ডাক্তার বলে হাওয়া বদলিয়ে আসুন। কিন্তু সত্যিকার অর্থে ভ্রমণ যদি নিরাপদ সুখকর ও আনন্দময় না হয় তাহলে আসলে সে হাওয়া বদল হয়না আর সে ভ্রমণ টনিকের মতো কাজও করে না। সত্যিকার অর্থে একটি সফল ভ্রমণের জন্য করনীয়গুলো জেনে নিতে পারেন ঝটপট।

 

১. হাতে সময় নিয়ে পুরো পরিকল্পনা সাজান:

অবশ্যই হুট হাট করে ভ্রমণ করবেন না। হাতে যথেস্ঠ সময় নিয়ে পরিকল্পনা সাজাবেন। যেখানে ভ্রমনে যাবেন সেখানকার সবকিছু আগেই জেনে নেবেন এবং হোটেল বা বাস ট্রেন বা বিমানের টিকেট ঠিক করে রাখবেন। এতে ভ্রমণে গিয়ে অযথা টেনশন করা থেকে বাঁচবেন। কারণ আপনি ভ্রমনে যাবেন মনটাকে হালকা করতে থাকা খাওয়া নিয়ে টেনশন করতে নয়। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি কোনো ট্যুর অপারেটর মাধ্যমে যান তাহলে সমস্ত টেনশন তাদের উপর ছেড়ে আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। অবশ্যই ভালো কোম্পানী বাছাই করে নেবেন।

 

২. দলবেঁধে ভ্রমণ করুন:

একা একা মুখ গোমরা ভ্রমনের গেলে উপকৃত হওয়ার চেয়ে আরো বেশী একা হয়ে যেতে পারেন আপনি। তাই অবশ্যই দলবেঁধে কাছের মানুষ বা বন্ধুদের নিয়ে ভ্রমনে যাবেন। কতজনের দল হতে পারে ১০ থেকে ২০ জনের দলই আদর্শ এর কম হলে ঠিক জমেনা আবার বেশী হলে ঝামেলা বেড়ে যায়। দল বাঁধার সময় গানিতিক হিসেব করে নেবেন। যেমন আপনি যদি বান্দরবান যান তাহলে ১০ বা ১২ সংখ্যাটা মেলাবেন। মানে ১০/১২ বা ২০/২৪ তাহলে চান্দের গাড়ি কিংবা নৌকার হিসেব মিলে যাবে। চান্দের গাড়িতে ১২ জন বসে ছোট নৌকায় ৪জন। সিলেট গেলে ৫ গুনিতক মেলানো ভালো। কারণ এখানে অনেকক্ষেত্রে সিএনজিতে যাতায়াত করতে হয়। কক্সবাজার বা সেন্টমারর্টিন হলে ৪ জনের গুনিতক ভালো। কারণ এখানের হোটেল বা রিসোর্টে একরুমে ৪ জন থাকতে পারে।

৩. সস্তা খুঁজতে যাবেন না:

আমাদের একটা সমস্যা হলো আমরা ভ্রমনে যাওয়ার সময়ও সস্তা খূঁজি। পরে বাজে সার্ভিস পেয়ে ট্রাভেল বা ট্যুর অপারেটর কোম্পানীর বদনাম করি। তাই বলে আমি বলছিনা আপনি ৪ টাকার মাল ৭টাকায় কিনুন। দেশে বাস, ট্রেন, বিমান ভাড়া সম্পর্কে নিশ্চয় আপনার ধারণা আছে। আছে খাবোরের দাম সম্পর্কেও তাই কেউ যখন খুব কম দাম হাঁটবে ধরে নেবেন ডালমে কুচ কালা হ্যায়। আর আপনার হিসেবের তুলনায় ১০-২০ ভাগ বাড়তি হলে এবং সেটি যদি ভালো কোনো কোম্পানী হয়ে তাহলে বাবা রাজি হয়ে যান। কারণ গাইডের খরচ দিয়ে তাদেরতো কিছু লাভ করার দরকার আছে। বেচারা আপনাকে খুশি করার জন্য বিনালাভে সেবা দিতে গিয়েতো ২দিন পর গুটিয়ে যাবে। তখন আর ভালো সেবাদানকারী খুজে পাবেন না।

 

৪. গাইড নিয়ে যান:

অনেকে আমরা খরচের কথা ভেবে গাউড বা কারোর হেল্প নেইনা। বলিযে রাস্তাতো লোকদের জিজ্জেস করলে বলে দেব। হোটেলতো মোবাইলে ফোন করে বুক করা যাবে। গাইডের কাজ কি। প্রথমত গাইডের কাছ থেকে আপনি সেখানকার ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবেন। দ্বিতীয়ত: সময়ের হিসেবটা গুরুত্বপূর্ণ আমরা হয়তো টাকার হিসাবটা মেলাতে পারি ২ হাজার টাকা পকেট বেশী খরচ হলে কি আসে যায়। কিন্তু সময়ের হিসেব। যেমন ধরুন আপনি বান্দরবান গেলেন। আপনি ঘুরবেন রেমাক্রি, তিন্দৃ, আমিয়াকুম, নাফাখুম। সময় ২ দিন। আপনি জানেননা কোথায় কখন যাবেন বা যেতে কতক্ষণ লাগবে। ফলে আপনি পথে নীলগিরীতে দেরী করলেন ঘাটে গিয়ে নৌকা মিস। রাতে সেখানেই থাকলেন পরেরদিন দুপুর নাগাদ কেবল রেমাক্রি যেতে পারলেন। খাওয়া বিশ্রাম করে ৩টা বেজে গেল। েএখন নাফাখুম আর আজ আর আসা যাবেনা। তাই এখানে বসে থাকুন। মানে আপনার ২ দিন শেষ। নাফাখুম যাওয়ার জন্য আপনাকে আরো একদিন থাকতে হবে। কিন্তু গাইড থাকলে আপনার এই সমস্যাটা হতো না।

 

৫. প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখুন:

ভ্রমণে গেলে কিছু জিনিস আমাদের সঙ্গে নিতে হয়। সেসব জিনিস অবশ্যই সাথে রাখুন। একটা চেকলিস্ট করে টিক মার্ক দিয়ে সব ব্যাগে ঢোকান। মনে রাখবেন অন্যান্য জিনিসের সাথে বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র, মোজাইল চার্জার এই ২টা জিনিস নিতে একদম ভুলে যাবেন না।

 

৬. খাবারের বেলায় চুজি হোন:

আমরা অনেকে বাইরে গেলে ঝাল-পোড়া, তেল-ঝাল, তথা রিচফুড খেতে পছন্দ করি। বা স্থানীয় সুস্বাদু খাবার পেলে আমার কোনো কিছু মনে থাকে না। মনে রাখবেন দূরে কোথাও হেলে আপনার জন্য যেন অন্যদের সমস্যা না হয়। এবং নিজেও শরীর খারাপ করে ঘুরতে গিয়ে হোটেল শুয়ে থাকা নিশ্চই কাম্য নয়।

৭. ভ্রমণসঙ্গি বাছাই:

আমরা অনেকে ভ্রমণ করার সময় যে যার সাথে উঠে পড়ি। এতে কিছু সমস্যা হয়। যেমন আপনি গেলেন সিলেটের হাম হাম ঝরনা দেখতে সাথে ১জনকে নিলেন যে ১ কিলোমিটার হাটলে হাতপা ব্যথা করে। অথচ সেখানে ৮/৮ মোট ১৬ কিলো হাঁটতে হয় পাহাড়ী পথে। তাহলে ট্যুর অপারেটর এর সাথে গেলে কি আরো বেশী সমস্যা হবেনা? না তা মোটে নয় কারণ তারা পর্যটকদের সবকথা আগে বলে নেয়।

Leave a Comment